ইবিতে স্থায়ী স্টেডিয়াম নির্মাণের দাবি উপাচার্যের

ইবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ 

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬ , ১২:৫৯ পিএম


ইবিতে স্থায়ী স্টেডিয়াম নির্মাণের দাবি উপাচার্যের
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় ওরিয়েন্টেশনে ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান । ছবি: আরটিভি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, খেলাধুলায় বহুবার আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হলেও এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী স্টেডিয়াম নেই।

শনিবার (১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কেন্দ্রীয় ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যেমন অনেক সুনাম রয়েছে, তেমনি কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীরের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। একটি নিরাপদ ও পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে সহযোগিতা প্রয়োজন। একইভাবে খেলাধুলায় সাফল্য থাকলেও এখনো একটি স্থায়ী স্টেডিয়াম গড়ে ওঠেনি। তাই স্টেডিয়াম নির্মাণেও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করছি।

তিনি বলেন, অবকাঠামোগত ঘাটতি, সংযোগ সড়কের দুরবস্থা এবং শিক্ষক সংকট কাটিয়ে উঠতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করছে। বর্তমানে আটটি বিভাগে মাত্র এক থেকে তিনজন শিক্ষক দিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই শিক্ষক সংকট দূর করা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চান তিনি।

আরও পড়ুন

উপাচার্য আরও বলেন, কোনো ধরনের আপস ছাড়াই সর্বোচ্চ যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে চাই।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইসলামী শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের লক্ষ্য নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নতুন শিক্ষার্থীদের মেধা, সততা, একাগ্রতা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, অন্য যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নীতি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের দিক থেকে অনেক এগিয়ে। এটিই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য। আশা করি, নতুন শিক্ষার্থীরাও এই সুনাম ধরে রাখবে এবং সাধারণ মানুষের করের টাকায় অর্জিত শিক্ষার মর্যাদা রক্ষা করবে।

উপাচার্য জানান, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে খুব শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ও চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে। পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম ও ভাষা দক্ষতা অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আবদুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, সদস্য ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল এবং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্ক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেনসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission